ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোম্যান্টিক গল্প : ম ধু 'র মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২৭ ১৬:৩০:৩৮
রোম্যান্টিক গল্প : ম ধু 'র মা রোম্যান্টিক গল্প : ম ধু 'র মা
রোম্যান্টিক গল্প : ম ধু 'র মা 

শফিকুল আলম টিটন 

কলেজের বড় গেট দিয়ে বেরিয়ে ডান দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে নিমকি। 
প্রতিদিনের মতো মেয়েদের কলেজের পাশে বট গাছটার নিচে অপেক্ষা করে অয়ন । কলেজ ছুটি হলে বেশ কিছুক্ষন সময় কাটায় অয়নের সাথে । সারাদিনে কথা বলার জন্যে এই সময়টুকুই পারফেক্ট ! ছুটির দিনে কথা বলতে চাইলে আগের দিন টাইম সেট করে নেয় !
-কখন এসেছ ? - নিমকি জানতে চায় ! 
-অনেকক্ষণ । বলতে বলতে কলেজের ব্যাগটা নিমকির কাছ থেকে নিয়ে নিজের কাঁধে ঝোলায় । 
-এতো দেরি করলা বের হতে ! 
-ছুটি দিলেই কি বের হওয়া যায় ! বান্ধবীদের সাথে কথা বলতে হয় না । 
-ও আচ্ছা। তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। 
-বলো ! শোনার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করে নিমকি !! 
-চলো আমরা কোর্ট ম্যারেজ করি !!
-কি ? -কথাটা শুনে আকাশ থেকে পড়লো নিমকি। চুপ হয়ে যায়।
-দ্যাখো। আমি আর এভাবে পারছি না।
-ক্যান পারবা না। আমি তোমার সব চাহিদাই পূরণ করি। তাহলে বিয়ে ক্যান ? আমার পড়াশোনাও তো শেষ হয়নি। চলছে চলুক।
-বিয়ে করলে কি পড়াশোনা করতে পারবা না ? অয়ন জানায়। তাহলে তোমার প্রবলেম কি ? এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে কতদিন ? 
-আমি এখন বিয়ে করবো না ? -বলতে বলতে অয়নের কাধ থেকে ব্যাগটা টেনে নিয়ে হন হন করে হেঁটে গেলো সামনে। অয়ন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো নিমকির দিকে।
নিমকি এরকমই । বাসায় গিয়ে ফোনে চুমাচাট্টি দিয়ে রাগ ভাঙ্গিয়ে রিলেশনশিপটা ঠিক রাখবে। এটা নিমকির ক্যারেক্টার। কিন্তু কাউকে অহেতুক কষ্ট দিবে না। 
অয়ন পা বাড়াল অফিসের দিকে। 
বড় রাস্তা পেরিয়ে গলির মুখ দিয়ে ঢুকতেই ছুটে এলো চকলেট প্রেমিক রুশো ! 
প্রায় হাঁপিয়ে উঠেছে ও। -মিমি তুমি এতো জোরে পা ফেলে যাচ্ছ ক্যান ? -বলতে বলতে নিমকির হাতে এগিয়ে দ্যায় ডেয়ারি মিল্ক চকলেট । ফ্যামিলি সাইজ চকলেট । 
রাস্তার ওপারে নিমকি ! এপারে মিমি ! আর বাসাতে সবাই ওকে রসিকতা করে মধুর মা বলে ডাকে । ভাত গেলো করা আর তরকারি পুড়িয়ে ফেলা প্রতিদিনের কাজ ওর। পুরবেই না ক্যান ? চুলোয় ভাত তরকারি বসিয়ে দিয়ে মোবাইলে চ্যাট করতে বসে গেলো। কখনো মোবাইল ফোনে কথা । কখনো ভিডিও কল করে কথা । কখনো চ্যাট করা নিত্যদিনের কাজ ছিল ওর। আর সেটা করতে গিয়ে মুখের সামনে একটা বই খুলে রেখে দিতো । কেউ উঁকি ঝুঁকি দিলে বোঝে যে, কলেজের পড়াশোনায় ব্যস্ত খুব। 
-যে ছেলেটার সাথে কথা বলছিলি, ছেলেটা কে ? -রুশো জানতে চায় ! 
-তুই দেখেছিস ! 
-হুম !
-ও আমার ভাইয়ার বন্ধু ! আবার আমার বান্ধবীর ভাইও ! 
-ও তাই ! কথাটা বলে চুপ মেরে গেলো রুশো ! নিরাবতা ভেঙে মিমি বলল, 
-তোকে আজ কতো সুন্দর লাগছে দ্যাখ, রুশো ! হ্যান্ডসাম বয় ! কি সাবান দিয়ে গোসল করেছিস রে আজ? 
-ক্যান লাইফ বয় !! প্রতিদিন এই সাবান দিয়েই গোসল করি । 
-দারুন তো ? তাইতো বলি আজ শরীর থেকে এতো খসবু ছুটে ছুটে আসছে ক্যান । আমাকে একটা কিনে দিস ? 
-চল না । এখনি কিনে দিচ্ছি ! 
-এখন কিনে দিবি ? ওরে আমার মনটি সোনা, ঘন্টু মনি । অ্যাই লাভ ইউ ! এজন্যই তো তোকে এতো ভালবাসিরে ! কিন্তু তুই বুঝলি নারে ? আমার সব ভালোবাসা তোর জন্যে। 
-তাই ! তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো ? প্রায় লাফিয়ে ওঠে রুশো । 
ওই যে দোকান চলো কিনে দেই ।-হাত বাড়িয়ে একটা ডিপারটমেন্টাল স্টোর ! দোকান দেখিয়ে ওরা দুজন পা বাড়াল সেদিকে। আজ যে কপাল ফাটল রুশোর সেই খবর নাই ! খুশিতে বাকবাকুম ! এতো সুখ আহা ! মিমিকে ভালবাসতে পেরে জীবন যেন ধন্য হোল আজ।
-দোকানে দাঁড়িয়ে মিমি জানতে চাইল-ভাই আপনার দোকানে বিদেশি লোশন আছে ?
-আছে তো আফা ? এই নেন ।
-ভালো পারফিউম, একটা চকলেট, বিদেশি যে কয়টা সাবান আছে একটা করে দেন। এক লিটারের আইসক্রিম থাকলে এক বক্স দেন ।বিরিয়ানির মশলা, কালা ভোনার মশলা, রোষ্টের মশলা, রেজালার মশলা, চটপটির মশলা দিয়ে দেবেন । আর হে আমার মন্টু সোনার পছন্দের লাইফ বয় দিতে ভুলবেন না যেন। আমি গোসল করে লাইফ গার্ল হয়ে যাবো। তারপর আমার ঘন্টু সোনারে বিয়ে করে ঘর সংসার করবো। আমার সময় নাই । দেন দেন তাড়াতাড়ি দেন ? বাসায় গিয়ে গা গোসল দেবো ? 
দোকানদার সবগুলো মাল গুছিয়ে প্যাক করে দিয়ে বলল দু হাজার পঞ্চাশ টাকা। 
-থতমত খেয়ে যায় রুশো । বেশ লজ্জায় পড়ে গেলো ও। পকেট থেকে টাকা বের করে দোকানদারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে - এখানে ছয়শত পঞ্চাশ টাকা আছে ? বাকিটা রাতে এসে দিয়ে যাবো ?
-মনে করে দিয়ে যাবেন রুশো ভাই । আমাকে যেন বারবার বলতে না হয়। 
-ঠিক আছে। সস্থির হাসি হেসে মিমির দিকে তাকায়। মিমি মিষ্টি করে হেসে চাপা গলায় বলে, সন্ধ্যার পড়ে এসো, আদর করে দেবো ? অনেক আদর করে দেবো ? 
-আচ্ছা। বলে মিমিকে বাসা অব্দি পোঁছে দেয় ও। মিমি ঘরে ঢুকলে রুশো ফিরে যায় বাসার দিকে। 

ঘরে ঢুকে শান্তির শ্বাস ফেললো মিষ্টি ।কলেজের ব্যাগটা বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দরজাটা ভেজিয়ে দেয় ও । ওপরমুখী করে বোরখাটা খুলে ফ্যালে । একে একে জামা, স্যালয়ার খুলে উদোম হয়ে যায়। ঘরে ঝোলানো তার থেকে ঘরে পড়া স্যালয়ার আর জামা টেনে নিয়ে পরতে শুরু করে । কিছুক্ষনের মধ্যে ড্রেস চেঞ্জ করে বিছানার ওপর মোবাইল ফোনটা নিয়ে শুয়ে পড়ে । গুটি গুটি অক্ষরে সায়েমকে টেক্সট করে, 
এই মাত্র কলেজ থেকে বাসায় আসলাম । আমি এখন থেকে তোমার জন্যে ফ্রি আছি ! 
তুমি ফ্রী হলে কল করো !! 
টেক্সট করা শেষ হলে চোখ বন্ধ করে সায়েমকে নিয়ে স্বপ্ন দ্যাখার চেষ্টা করে। সায়েমের সাথে পরিচয় ফেসবুকে । সায়েমের প্রোফাইলে লন্ডনে থাকে বলে জানায়। কিন্তু পুরোটাই জালিয়াতি ! ফেসবুকের অধিকাংশ অ্যাই ডি'ই ফেক । হয় অন্যের ছবি, তা না হলে ভুল ইনফরমেশন পোষ্ট করছে সবাই । পারফেক্ট অ্যাই ডি আছে ।তবে সেটা সংখ্যায় কম । সায়েম জিঞ্জিরাতে একটা পার্টসের দোকানের কর্মচারী । কিন্তু কথা বলার সময় কোন ছুঁত ধরে মালিকের বাসায় চলে যায় । আলিশান বাড়ি । খুব সৌখিন লোক তিনি । বাড়িটাকে নিজের মনের মতো করে বানিয়েছে । মিষ্টির ম্যাসেজ পেয়ে মালিকের বাড়ি চলে গেলো ।
আচানক অডিও কল এলো । মাত্রই চোখ লেগেছিল মিষ্টির । শব্দ শুনে রিসিভ করলো ও। 
-অ্যাই লাভ ইউ সোনা !
-অ্যাই লাভ ইউ ! কি করো ? জানতে চায় সায়েম । 
-শুয়ে আছি ! 
-শরীর খারাপ ! 
-না তেমন না ! কলেজ থেকে আসার পর থেকে ক্লান্ত লাগছে ! মিষ্টি জানায়। 
-ও তাই। আমি কাল বাংলাদেশে আসবো । এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে রিসিভ করবা। আমরা সরাসরি গাঁয়ের বাড়ি চলে যাবো। তুমি প্রস্তুতি নিয়ে ল্যাগেজ নিয়ে এয়ারপোর্ট থাকবা । আমার গাড়ি রেডি থাকবে। সোজা গ্রামে ! এখানে থেকেই তোমার পাসপোর্ট বানিয়ে ভোঁ করে চলে যাবো লন্ডনে ! কি যাবা তো ?
-যাবো ?
-ওকে। ডার্লিং ! আজ রাতে ইমতে ফোন দিব । তুমি আজ তোমার সব কিছু খুলে মেলে দেখাবা ! কি দেখাবা না ?
-হুম ! 
কথার ফুলকি ঝরে পড়তে লাগলো ঘন্টার পর ঘন্টা ! কথা বলতে বলতে সূর্য ডুবতে বসেছে। সন্ধ্যা রাত । মিষ্টি চটপট বিদায় নিলো যখন দরজায় কেউ নক করলো ।
-দরজা ভেজানোই ছিল । দরজা ফাঁক ওরে উঁকি দিতেই দ্যাখে রুশো !
-আসো সোনা । 
রুশো ঘরে ঢুকেই দরজাটা বন্ধ করে দিলো । একসময় ঘরের বাতি বন্ধ করে দিলো । 
দুজনে অন্ধকারে এক হয়ে গেলো। মুখে কোন রা শব্দটি নেই কারো । দুইজনেই উদোম গায়ে শুয়ে পড়লো । আস্তে আস্তে বিছানার ওপর ঝড় বয়ে গেলো ! 
বেশ কিছুক্ষন পর দুইজনে শান্ত হয়ে মুখোমুখি তাকাল ! 
রুশো ফিসফাস করে বলল, সোনা তুমি আমার কে ? 
-মধু ! না, আমি তোমার মধুর মা ! 
-মধুর মা ! -শব্দ করেই হেসে উঠলো রুশো ! সাথে সাথে মিষ্টিও !
রাত বেড়ে চলেছে ! রাত বারটার আগে বাসার কেউ ফেরে না ! মোবাইলে রাত নয়টায় এলারম দিয়ে দুইজনে জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে পড়লো।



মিষ্টির ফোন আচানক বেজে উঠলো । একবার, দুইবার, তিনবার ----- ত্রিশবার !
ওরা দুজনেই ঘুমের ঘোরে শোয়া ! একে অপরকে ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে ধরে স্বপ্ন রাজ্যে হামাগুড়ি খেতে লাগলো ! 
মিষ্টির ফোন বার বার বেজেই চলেছে !বাজতে বাজতে এক সময় থেমে গেলো শব্দটা !

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ